রবিবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ - ১১:০১
ইরানের পাল্টা আঘাত জাহান্নামের দরজা খুলে দেবে

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদক বারাক রাভিদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি ঘোষণা সত্ত্বেও চাপের মুখে বুধবার শেষ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প তা বাতিল করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবারের আগে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা দল বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে, যার মধ্যে ছিল সাইবার হামলা থেকে শুরু করে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত সামরিক অভিযান।

পেন্টাগন ইতিমধ্যেই অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা বৃদ্ধি, সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং নৌ-প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল।

এক্ষেত্রে একটি বড় সামরিক বাধা ছিল জটিল রসদগত হিসাব। হিসাবে দেখা যায়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে মোতায়েন নেই এবং সেগুলো সরবরাহ করতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মতো প্রধান মিত্র দেশগুলোর সতর্কবার্তাও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এ দেশগুলো ট্রাম্পকে সতর্ক করে দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ইয়েমেন থেকে লেবানন পর্যন্ত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে এবং তাদের স্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া সম্ভাব্য ইরানি জবাবি আক্রমণ মোকাবেলায় তারা পর্যাপ্ত প্রস্তুতও নয়।

এছাড়া, এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে নির্ণায়ক ফ্যাক্টর ছিল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো বার্তা, যা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে চূড়ান্তভাবে হামলার নির্দেশ দিতে বাধা দেয়।

ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মিত্রদের পশ্চাৎপসরণ
এই প্রতিবেদনের পাশাপাশি, দখলকৃত ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোতে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে জারি থাকা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থাই এই পরিবর্তন নিশ্চিত করে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দখলকৃত এলাকাগুলোয় এই সতর্কতা অবস্থা আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের আর্মি রেডিও পূর্বেই জানিয়েছিল, সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা জবাবের মুখোমুখি হওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে (পশ্চিম এশিয়া) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত যুদ্ধক্ষমতা নেই বলে পেন্টাগন কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।

এদিকে, টাইমস অফ ইসরায়েল রিপোর্ট করেছে, ট্রাম্প এখন একটি জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানতে পারবেন, কিন্তু প্রাপ্ত সতর্কবার্তায় ইঙ্গিত করা হয়েছে যে এটি একটি কঠিন যুদ্ধ, এমনকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

পশ্চিমা ও ইসরায়েলি মিডিয়ার প্রচারণার বাইরে ইরানের অনস্বীকার্য শক্তি
এই স্বীকারোক্তিগুলো থেকে স্পষ্ট যে, ইরানের ওপর কোনো ছোটখাটো হামলারও সিদ্ধান্তমূলক ও রক্তক্ষয়ী জবাব দেওয়া হবে। এটি ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জবাবি আঘাতের সক্ষমতারই প্রতিফলন, যা ২০২৫ সালের ১২-দিনের যুদ্ধের পর আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার জন্য জাহান্নামের দরজা খুলে দেবে।

ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মতো মিত্রদের সতর্কতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ১২-দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর তারা তাদের নিজস্ব দুর্বলতা সম্পর্কে ভালো করেই জানেন। ইসরায়েলি প্রশাসনেরই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তারা এত স্বল্প সময়ের মধ্যে ১২-দিনের যুদ্ধের মতো ইরানি হামলা সামলাতে সক্ষম নয়। সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশগুলোও নিরাপত্তা প্রদানে তাদের নিজেদের ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন।

পরিশেষে এটাই স্পষ্ট যে, সবাই জানে ইরানের পবিত্র ভূমিতে— অন্যান্য দেশের মতো সামরিক আক্রমণের ফল এত সহজলভ্য হবে না। ইরান আবাবিল পাখির দলের মতো তাদের ওপর নেমে আসবে। তারা যদি পূর্ণ সচেতনতায় ইরান আক্রমণ করে, তার অর্থ তারা এর পরিণতিও মেনে নিয়েছে। তখন জাতিসংঘ বা অন্য কোথাও অভিযোগ বা কেবল প্রতীকী আলোচনার কোনো অবকাশ থাকবে না।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha